বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১২

সমস্যাতেই ভোগা নাকি সমাধান খোঁজা....

মানুষ যখনই কোন কারণে তার কাজে বাধাগ্রস্থ হয় বা কোন সমস্যায় পরে, ঠিক তখনই প্রথম তার চিন্তায় কি আসতে পারে? 

১. এই মুহুর্তে আমি অনেক সমস্যার মাঝে আছি, এমন কেউ কি আছে যে আমাকে এই সমস্যা থেকে উদ্ধার করবে !
২. আর এই সমস্যা না...., এই দিয়ে চতুর্থবার হবে যে আমি একই সমস্যাতে পরলাম !!
৩. আমি এই কাজটি একদমই পছন্দ করিনা, কি এমন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো !!! 

স্বাভাবিকভাবেই যেকোন কাজ করতে গেলে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হই৷ কাজগুলো কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক যেকোন প্রকার হতে পারে৷ এমন আমরা অনেকেই আছি যারা সমস্যার সমাধান খোঁজা বাদ দিয়ে বলি- "গিভ আপ", "আর পারছিনা"৷ অফিসের পরিবেশে আমাদের সহকর্মীদের মাঝেই এমন ক'জন মেলে যারা সমস্যার কথা চিন্তা না করে আগে সমাধানের কথা চিন্তা করে ! অবশ্য অনেকেই আমরা সমস্যাজড়িত সহকর্মীদের তাদের কাজে সাহায্য করি, কিন্তু পরবর্তীতে তারা যেন স্বাধীনভাবে নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে পারে সেদিকটাতে কি সাহায্য করি ! 

প্রকৃতপক্ষে, যারা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারে, তারা যেকোন জটিলতা দেখলেই সমাধান বের করতে উদ্ধুত হয় আগে৷ কাজেই কাউকে সমস্যার দিকে দৃষ্টিপাত না করে, আগে প্রভাবিত করতে হবে সমাধান নিয়ে৷ আর তা করতে হলে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে৷ যেমন: 

১. নিজের দূর্বলতা নিয়ে না ভেবে, আগে শক্তিগুলো বের করুন৷
২. সমস্যা নিয়ে না ভেবে বরং সমাধান নিয়ে আগে ভাবুন৷
৩. দৃষ্টি দিন পর্যাপ্ততার প্রতি, অপর্যাপ্ততার উপর নয়৷
৪. ভাবুন "কি করা যেত", "কি করা সম্ভব নয়" সেটা না হয় পরেই ভাবুন৷ 

পুরো সমস্যাটির দিকে দৃষ্টি আগে দিতে হবে: 
যদি আমরা কোন কাজের ক্ষেত্রে (অফিসিয়াল প্রজেক্ট) সমস্যার ধাপটিতে বেশি সময় নিয়ে নেই তখন আমাদের ক্লায়েন্ট প্রচন্ড হতাশা বোধ করেন৷ আর হতাশা দুদিকটাতেই প্রভাবিত করে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে যা সমাধান বের করবার অনুকূলে হয়না৷ আমরা এমন অনেক মানুষ দেখেছি যারা তাদের সমস্যা-সংকট বা জটিলতাগুলো নিয়ে কথা বলে এবং তাদের সেই সমস্যাগুলো ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে৷ এক পর্যায়ে দেখা যায় সমস্যাটি এতটাই জটিল আকৃতি নিয়ে নেয় যে তখন ভুক্তভোগীরা তা পুরোটাই নিজেদের ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় এবং সেই জটিলতাটিকে নিজেদের জীবনের একটি অংশ হিসেবে মেনে নেয়৷ আবার কিছু কিছু মানুষ তাদের অন্য সমস্যাগুলোর কারণও প্রথম সমস্যাটির জন্য হয়েছে বলে অভিযোগ করে থাকেন৷ কাজেই সমাধান ছেড়ে সমস্যা নিয়েই বেশি মাতলে কিন্তু তা থেকে বের হওয়া যায়না বরং তা জালের মত আরোও আটকে যায়৷ আর এই বেশি ভাবাটা নিজের ভেতর একটা বোধ তৈরি করে যা হচ্ছে নিজেকে সমাজের একজন ভুক্তভোগী হিসাবে ভাবা৷ 

সবসময় "ভালো দিক" যাকে বলে "পজিটিভ চিন্তা", তাই করতে হবে৷ সমস্যা দেখে বিচলিত বা ভয় না পেয়ে যদি সমাধান খোঁজার ব্যপারে বেশি মনোনিবেশ করা হয় তবে দেখা যাবে যে, এক পর্যায়ে মানুষের মস্তিস্কে সবসময় যে কোন সমস্যায় পরলে সুস্থ, সাবলীল ও গঠনমূলক ভাবনা করবার একটা প্রচেষ্টা তৈরি হয়ে যাবে৷ সমাধান খোঁজতে গিয়ে তার বিভিন্ন পথ বা পন্থাও তাদের নজরে আসবে৷ দেখতে পাবে শুধু একটি পথই নয়, বরং দ্বার খোলা আরোও বিভিন্ন পথের৷ আর এতে করে একটি পর্যায়ে গিয়ে মানসিকভাবে তারা আরো সক্ষম হবে এবং আত্মতৃপ্তিবোধ করবে সমাধান বের করবার মধ্য দিয়ে৷ কাজেই একটি বিপর্যস্থ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে চর্চা করতে হবে"সমাধান আগে খোঁজার চেষ্টা"৷ 
কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে গেলে ব্যাপারটিকে সহজ করা যায়, যেমন: 

১. যা তুমি করতে চাইছো, তাতে এমন কি খারাপ আছে ?
২. কী এটাকে কঠিন করে তুলছে ?
৩.কী জন্য তুমি কাজটিতে আরোও ভালো করতে পারছোনা ?
৪. তারা কে, যারা তোমার কাজের সাফল্য বা উন্নতির পক্ষে নয় ?
৫. কাজের ক্ষেত্রে তোমার মূল জটিলতার কারণ কি ?
৬. কী তোমাকে বাধাগ্রস্থ করে ? 

সবসময় নিজেকে প্রকৃত বা যথার্থ প্রশ্ন করতে হবে৷ যা সমস্যা নিয়ে আলোচনার চেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে সমাধান কি বের হতে পারে৷ কাজেই আবারো বলব, পজিটিভ চিন্তা করুন......পথ আপনাতেই বের হবে৷

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১১

যারা ঝরে পরে.....আমাদের অগোচরেই........


আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা................. 
বিজয় কি?....আন্দোলন, সংগ্রামের পর যে জয় পাওয়া। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, বাংলাদেশ নয়টি মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরই তার বিজয় অর্জন করে। রাতের আঁধারে চুপি চুপি পাওয়া স্বাধীনতা আমাদের নয়। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের দ্বারা, হাজারো স্বজনদের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন প্রাণহীন দেহের বদলে পাওয়া। কোন অবহেলায় পাওয়া এই স্বাধীনতা নয়, এই স্বাধীনতা আমাদের গর্ব, অহংকার।

হারানো অমূল্য হাজারো রতন.................. 
বিচক্ষণ ব্যক্তিরা বলে থাকেন, কোন দেশ বা জাতিকে খোঁড়া করে দিতে চাইলে তার সংস্কৃতি, তার লোকজ সম্পত্তি ধ্বংস করে দেয়া উচিৎ। জাতি আপনাতেই খোঁড়া হয়ে যায়, ধ্বসে পরে। আমাদের দেশেও ঠিক তেমনটিই হয়। হাজারো অমূল্য বুদ্ধিজীবিদের হারিয়ে খোঁড়া পায়ে দাঁড়ানো চেষ্টা চালায় সদ্য জন্ম নেয়া একটি দেশ, বাংলাদেশ। কিন্তু ইতিহাসের মীরজাফর, জগৎশেঠরা সর্বকালেই তাদের যোগ্য অনুসারীদের রেখে যায়। আমাদের ক্ষেত্রেও এর বিপরীত কিছু ঘটেনি। বন্য পশু, জংলীর ন্যায়, নিজেরাই নিজেদের মাংস খেয়েছি। ভয়াল কূটনীতির জালে জড়িয়ে হারিয়েছি বহু দেশপ্রেমিক নেতা। খোঁড়া পা, যে সবল পায়ের উপর তার ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারতো, তার উপরই চালানো শুরু করেছি ধারালো করাত। আজও চালিয়ে যাচ্ছি। মুখ থুবড়ে পরে যেতে বাকি নেই, যদি না এখনোই না থামাই।

বাংলার মাটির আগামী প্রজন্ম.................. 
এক শিশুকে দেখলাম, বছর ৪ হবে। বড় দরদ দিয়ে গাইবার চেষ্টা করছে, "একটি বাংলাদেশ, তুমি জাগ্রত জনতার..", জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই গান কেন গাইছো, কে শিখিয়েছে। উত্তর বড় সুন্দর ছিল। "এটা দেশের গান, আমার বাবা শিখিয়েছেন। আমরা দুষ্টু লোকদের কাছ থেকে অনেক যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছি, আমাদের অনেক সাহস, আমরা টাইগার তাই।" চমৎকার ! এতটুকু শিশু মনে যে এটা দাগ কেটেছে, এটাই আমাদের সেই লাখো শহীদদের চাওয়া। কেননা, এরাই বড় হয়ে এক একজন হবে সেই মহান শহীদদের মত নির্ভীক, নেতা। বিজয়, স্বাধীনতা কি; তা যদি এই নতুন প্রজন্ম উপলব্ধিই না করে তো কিভাবে সম্ভব খোঁড়াকে সেবা-মমতা দিয়ে শক্ত করে দাঁড়াবার উপযুক্ত করা?

দেশাত্মকবোধ যেন ফ্যাশন না হয়.............. 
আজকাল কিছু কিছু শিক্ষাঙ্গনে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিশেষ দিনগুলি তার অনেক আড়ম্বর করেই পালন করে। এটা যে খারাপ বা নেতিবাচক কিছু তা নয়। কথা হচ্ছে এটা যেন ফ্যাশন না হয়ে যায়। নতুন প্রজন্মরা অনেক উৎসাহের সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে; কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ সময়ই অংশগ্রহণকারী সন্তানের বাবা-মায়েরা ব্যস্ত ও চিন্তিত থাকে, তাদের সন্তান বাকি সবার থেকে ভালো করল কিনা, তাকে ভালো দেখাচেছ কিনা কিংবা তার সজ্জ্বায় সবার চেয়ে বেশি খরচ হলো কিনা। স্বাধীনতার গুরুত্ব কেনইবা এতো মর্হাঘ্য যার জন্য তাদের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এটা বোঝানোর জন্যে ১০টি মিনিট ব্যয় করবার সময়ই যেন এদের নেই। আর থাকলেও নিজেরা চিন্তা করে, "কিছু বলে তো লাভ নেই এরা তো কিছুই বুঝবেনা" বা "বোঝার বয়স হলে একাই বুঝবে।" আমার কথা আপনি আপনার শিশুটিকে যে সময় ব্যয় করে "ফ্যাশন" কি সেটা বোঝাচ্ছেন, সে সময়টাতে কষ্ট করে খেলাচ্ছলে কিংবা গল্পচ্ছলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কি সেটাও বোঝাতে পারবেন। "ফ্যাশন" অনুধাবন করতে পারলে এটা বড় কোন কঠিন বিষয় নয়।

কবিগুরুর একটি কথা এখানে বলা উচিৎ, যে সত্যিই "ফ্যাশনটা হচ্ছে মুখোশ; আর স্টাইল, মুখচ্ছবি।" আমাদের স্টাইল, আমরা বাংলাদেশি।

যেন ঝরে না পরে......... 
এবার ১৬ই ডিসেম্বরের প্যারেডে দেখলাম বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তাদের অংশগ্রহণের উৎসাহ চোখে পরার মত। সুসজ্জি্বত বেশকিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে, সজ্জ্বায় দেউলিয়াপনা; বলা চলে অবহেলার ছাপ স্পষ্ট এমন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও। অবাক করার বিষয় সেইসব বিদ্যালয় সরকারি। এখানে কিন্তু বেশভূষার কথা বলা হচ্ছেনা। বলা হচ্ছে যারা শিক্ষা প্রদান করছেন তাদের কথা। তাদের সম্বনয়ে নিদারুন অবহেলা আর দৈন্যতার কথা। মনে হলো যেন কোনরকমভাবে প্যারেডে এদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা, নিয়ে আসতে হবে বলে। কিন্ত সুসংগঠিত করবার কোন প্রয়াস এদের নেই।






একটি প্যারেডে অংশগ্রহণ মানেই, তাদের গোটা বিদ্যালয়টির অভিব্যক্তি উপস্থাপন করা হাজারো মানুষের সামনে। এমনটা কেন হবে? সুষ্ঠু সংগঠন বোঝায়, শিক্ষার পরিবেশ কেমন হবে তা। সুসংগঠন; অর্থের মাপকাঠিতে বিচার করা হয়না। বিচার করা হয়, সুশৃঙ্খলতা আর সুসম্বনয়ের দ্বারা। আর এক্ষেত্রে এই সুষ্ঠু নিয়মের অভাব সুস্পষ্ট, এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রদানকারীদের মধ্যে।






এই শিশুফুলগুলি চোখের অগোচরে জন্ম নেয়, কিন্ত এরা যেন অবহেলায় ঝরে না পরে অন্তত এটাতো আমরা দেখতে পারি!!! 

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১১

এলোমেলো ভাবনাগুলি......৬


আজ শুধুই কিছু ছবি........
প্রথমেই......আজ আমরা স্বাধীন...........


ও আমার দেশের মাটি....তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা........








কিন্তু আরোও যে বাকি আছে পথ চলা...........


দেশমাতাকে বাঁচাতে হবে.......কালোর ছায়া থেকে...........


এগিয়ে যাবো উন্নতির দিকে..............


উদয় হবে এক নতুন সূর্য...নতুন আলোর দিন.........


এ আমার, তোমার, আপনার, আমাদের সবার স্বপ্ন, সবার শপথ......সবার দৃঢ় বিশ্বাস।